সাঁতারুদের হার্টবিট ইনস্টাবিট

0

সাঁতারুদের পারফরমেন্সকে আরও ভালো করতে এক লেবাননবাসী নিয়ে এসেছেন ইনস্টাবিট। হিন্দ হোবেইকা যিনি একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী, 'ডব্লিউইএফ গ্লোবাল শার্পার' এবং 'কোয়ান্টিফায়েড সেলফ, বেইরুট'-এর প্রতিষ্ঠাতা। আরব দেশের এরকম এক ইঞ্জিনিয়ার এবং উদ্ভাবকের মুখোমুখি ইয়োরস্টোরি...


ইয়োরস্টোরিঃ ইনস্টাবিট নিয়ে কিছু জানান।

হিন্দঃ ইনস্টাবিট সাঁতারের সময় হার্ট বিট মাপতে সাহায্য করে।সাঁতারুদের হার্টবিট মাপার প্রয়োজন পরে।কোচদের বেশী প্রয়োজন। কিন্তু সেটা সাঁতার শেষ না হলে করা সম্ভব নয়।তাই ঘাটতি তো থেকেই যায়। এই ঘাটতিটাই মেটাবে ইনস্টাবিট। গগলসের মত পরা যাবে এটি। ডেটা ডাউনলোড করে সেটা বিশ্লেষণও করতে পারবেন সাঁতারুরা। এর মধ্যে অনেকবার ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়েছে। সব ক'টিই গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

ইয়োরস্টোরিঃ ইনস্টাবিটের আগে ওজন ছিল ১৭০ গ্রাম। পরে কমিয়ে ৫০ গ্রাম করা হয়। আগের ওজনের চেয়ে এক তৃতীয়াংশ কম। এটা কি একটা চ্যালেঞ্জ ছিল?

হিন্দঃ প্রায় দু'বছর সময় লেগেছে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ওজনটা কমাতে। ডিজাইন নিয়ে নানা কারুকাজ করতে হয়েছে। লেয়ারগুলোকে আরও উন্নত করতে হয়েছে।

ইয়োরস্টোরিঃ নিজের সম্বন্ধে কিছু বলুন, এই জীবিকাই বা কেন বেছে নিলেন ?

হিন্দঃ আমি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনা করেছি। কিন্তু কোম্পানিতে বসে কাজ করা আমার কোনও দিনই পছন্দ ছিল না। এই অপচ্ছন্দটাই আমাকে ব্যবসায়ী করে তুলেছে। আমি মনে করি নিজের মত কিছু করার অর্থটাই আলাদা। দৈনন্দিন জীবনেও পরিবর্তন আসে। ইনস্টাবিট তৈরির পেছনে আমার এই চিন্তাগুলিই কাজ করেছে।


ইয়োরস্টোরিঃ একজন মহিলা হিসেবে এই সাফল্যকে কীভাবে দেখবেন?

হিন্দঃ মহিলা হিসেবে অদ্ভুত কিছু ধারণা মানুষের মধ্যে থাকে, বিশেষ করে সে যদি আবার আরব দেশ থেকে আসে। আগেই মনে করা হয়, সে নিশ্চয়ই কোনও কাজ করতে পারবে না। এটা সত্যিই একটা সমস্যা। মহিলাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও সর্বত্র সমান নয়। ইঞ্জিনিয়ারের মত চ্যালেঞ্জিং কাজ করাটাও তাই মহিলাদের ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়ে দাঁড়ায়।

ইয়োরস্টোরিঃ কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম অনেক বেশি শিক্ষিত। তাঁরা নিজেদের ভবিষ্যৎটা গড়তে চায় নিজের মত করে। পরিবারের সমর্থনও থাকে।

হিন্দঃ আপনি ৫০০টা কোম্পানি দেখুন, ক'জন মহিলা সিইও থাকে? কজন মহিলাই বা ইঞ্জিনিয়ার হয়? ব্যাপারটা পয়সা থাকা বা না-থাকা কিংবা অভিজাত ঘরানার বলে নয়, প্রশ্নটা মানসিকতার।

ইয়োরস্টোরিঃ লেবানন সম্পর্কে ভালো কিছু বলুন। আপনি বলেছেন, বেশ কয়েকজন প্রতিভাবানের সঙ্গে আপনি কাজ করেন। ইনস্টাবিটকে বাজারে আনতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের আপনি মুখোমুখি হয়েছেন?


হিন্দঃ সব কিছুরই একটা ভালো কিংবা মন্দ থাকে। লেবানন থেকেও বাইরে থেকে আমরা লোক এনে কাজ চালাই, যা যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ। লেবাননে মানুষকে কাজের প্রতি আকৃষ্ট করাটাই কঠিন।

ইয়োরস্টোরিঃ পরবর্তী পাঁচ বছরে আপনার পরিকল্পনা কী?

হিন্দঃ পরবর্তী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ডিভাইস নিয়ে আরও বেশি করে কাজ করা হবে। ডিজাইনেও কিছু পরিবর্তন আসবে, যাতে তথ্যাবলি আরও ভালো করে সংরক্ষণ করা যায়।  

লেখক-অনুবৈদ্যনাথন

অনুলেখক-চন্দ্রশেখর চ্যাটার্জী

Related Stories