শুরুয়াতি ব্যবসার পথে পা বাড়ানোর আগে প্রয়োজনীয় ৫টি প্রশ্ন

0

কোনও ব্যবসা শুরু করার পরেই আপনার প্রথম কাজটি কী হবে? আইনি পথে তাকে স্বীকৃতি দিয়ে কোনও প্রাইভেট লিমিটেড বা পার্টনারশিপ ফার্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা? কি, ঠিক তো?

না, ঠিক নয়।

আপনার প্রথম কাজ হওয়া উচিত আপনার প্রোডাক্টের জন্য ক্রেতা খুঁজে বের করা। যদি আপনার প্রোডাক্ট তখনও প্রস্তুত না হয়ে থাকে তাহলেও। আমরা সাধারনত যেসব ব্যবসা দেখতে অভ্যস্ত তাতে হয়তো এই উপদেশ আপনার অদ্ভুত মনে হতে পারে। যদি আপনি এমন কোনও ব্যবসা করছেন যাতে প্রথম দিন থেকেই আপনি রোজগার করতে পারবেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টা অন্য।

কিন্তু ইন্টারনেট স্টার্ট আপ প্রথমদিন বা প্রথম মাস কেন, চালু হওয়ার পর বেশ কয়েক মাসও অনেক সময় কোনও উপার্জন করতে পারে না। সেই সময়টা তাদের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছনোর জন্য মার্কেটিং এবং প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের কাজে প্রচুর খরচ হতে থাকে।

আপনার সংস্থাকে নথিভুক্ত করার আগে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উত্তর পাওয়া প্রয়োজন:

১. আপনার গ্রাহকদের কাছে কি আপনার সংস্থার আইনী প্রমাণপত্রের কোনও প্রয়োজন আছে?

সাধারনত তা থাকে না। তবে আপনি যদি কোনও বড় সংস্থাকে পরিষেবা প্রদান করেন সেক্ষেত্রে বিভিন্ন কাগজপত্র, যেমন- ব্যাঙ্কের চেকবই, সেল্‌স বা সার্ভিস ট্যাক্স নম্বর, সংস্থা কতদিনের সেই সব তথ্যপ্রমাণ দরকার হতে পারে। আর সংস্থার আইনগত স্বীকৃতি না থাকলে তার নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব নয়।

কিন্তু আপনার ক্রেতা বা গ্রাহকেরা যদি কেবলমাত্র ভিজিটিং কার্ড বা লেটারহেড দেখতে চান তাহলে কোনও লিগাল ফর্ম্যালিটি ছাড়াই আপনি এগুলি ছাপিয়ে নিতে পারেন। ব্যবসার জন্য সাময়িকভাবে আপনি যেকোনও নাম ব্যবহার করতে পারেন।

২. কখন আমি আমার সংস্থা থেকে উপার্জন করতে পারব?

আপনি যদি নিশ্চিত থাকেন যে কাজ শুরু করার মাসখানেকের মধ্যে রোজগার করতে পারবেন তাহলে নথিভুক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা করতে শুরু করুন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার আগেও চেক বা ক্যাশে আপনি পেমেন্ট নিতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে কোনও সংস্থার ইনকর্পোরেশনের কাজে সময় লাগে। সেই কারণে প্রথম রোজগার আসার অন্তত একমাস আগে থেকে নথিভুক্তকরণের কাজ শুরু করাই ভালো।

৩. আমার কি কোনও সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র প্রয়োজন?

অধিকাংশ ইন্টারনেট সংস্থাই কোনও সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই কাজ শুরু করতে পারে। কিন্তু আপনার ব্যবসার যদি নির্দিষ্ট কোনও বিভাগের ছাড়পত্রের প্রয়োজন থাকে, তাহলে সবার আগে আপনাকে নিজের সংস্থার নথিভুক্তকরণের কাজ করতে হবে। দিল্লিতে ওলা, উবের যে সমস্যায় পড়েছিল সেরকম কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে আপনি নিশ্চয় চাইবেন না।

৪. আমার কি বাইরে থেকে বিনিয়োগের প্রয়োজন?

শুরুয়াতি ব্যবসার ক্ষেত্রে দু'ধরণের বহিরাগত বিনিয়োগ হতে পারে - ব্যাঙ্ক লোন এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডিং। ব্যাঙ্ক কেবলমাত্র সেইসব সংস্থাকেই ঋণ দিয়ে থাকে যাদের বাস্তবিক কোনও বিষয়সম্পত্তি (physical assets) অথবা কোনও স্থাপিত ব্যবসা (brick and mortar stores) আছে। তবে কোনও ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হয়তো আপনার ইন্টারনেটচালিত সংস্থা ব্যাঙ্ক লোন পেতে পারে। 

আপনি অ্যাঞ্জেল ইভেস্টর বা ভিসি জোগাড় করতে পারেন। কিন্তু নিজের সংস্থাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত আপনি ভিসি বা সিড ফান্ডিং, কোনওটাই গ্রহণ করতে পারেন না। আপনাকে বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট শেয়ার নির্ধারণ করতে হবে এবং তা তখনই সম্ভব যখন আপনার সংস্থা আইনত স্বীকৃত। তবে, বিনিয়োগকারীদের থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া পর্যন্ত আপনি অপেক্ষা করতে পারেন। যদি আপনি বিনিয়োগ গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে সংস্থার ইনকর্পোরেশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করে দিন।

৫. আমি কি সরকারি প্রকল্প থেকে কোনও ছাড় বা সুবিধা পেতে পারি?

আপনার ব্যবসা যদি এধরণের কোনও ছাড় বা প্রকল্পের আওতায় পড়ে তাহলে অবশ্যই তার জন্য অ্যাপ্লাই করার আগে সংস্থাকে নথিভুক্ত করুন। স্টার্ট আপের জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আপনার যদি শক্তির পুনর্নবীকরণ, কৃষি, স্বাস্থ্য বা শিক্ষা বিষয়ক কোনও ব্যবসা হয়ে থাকে তাহলে আপনি সরকারের তরফে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।

যেসমস্ত শুরুয়াতি প্রকল্প কোনও সামাজিক কারণ নিয়ে কাজ করছে তাদেরকে অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সাহায্য করে থাকে। এর জন্য আপনার সংস্থার এনজিও হওয়ারও কোনও প্রয়োজন নেই।

প্রাইভেট লিমিটেড/প্রোপ্রাইটরশিপ/পার্টনারশিপ/এলএলপি-র মধ্যে বাছবেন কী করে?

আপনি যদি এমন কোনও সংস্থা খুলছেন যেখানে আপনি সহ-প্রতিষ্ঠাতা, কর্মী বা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মালিকানা ভাগ করবেন তাহলে প্রাইভেট লিমিটেড হিসেবে নথিভুক্ত করুন। কোনও প্রাইভেট লিমিটেজ সংস্থা তৈরী করার এবং তা চালানোর নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও খরচ আছে এবং তার জন্য আপনাকে সারা বছর সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। প্রথমদিকে বিষয়টি জটিল মনে হলেও পর্যাপ্ত পুঁজি এবং লোকবল থাকলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

আপনি যদি সংস্থার এরকমাত্র মালিক হন এবং সেভাবেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে প্রোপ্রাইটরশিপের জন্য অ্যাপ্লাই করুন। এর জন্য বস্তুত কোনও কাগজপত্রেরই প্রয়োজন হয় না কারণ আপনার PAN-ই চিহ্নিতকরণ এবং ট্যাক্স সংক্রান্ত সমস্ত কাজের জন্য যথেষ্ট। আপনাকে শুধুমাত্র সংস্থার নামে একটি আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

যদি আপনি কয়েকজন অংশীদারের সঙ্গে ব্যবসা করেন এবং প্রত্যেকের নির্দিষ্ট অংশীদারিত্ব থাকে তাহলে পার্টনারশিপ ফার্ম খুলতে হবে। স্ট্যাম্প পেপারে সব কাজ হওয়ার পর এবং PAN পাওয়ার পর সংস্থার নামে ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলুন। কোম্পানি যদি কোনও আইনী জটিলতায় পড়ে তাহলে প্রত্যেক অংশীদারকেই তার দায়িত্ব নিতে হবে। সংস্থা ক্ষতির মুখে পড়লে তা পুনরুদ্ধারের জন্য আপনার ব্যক্ততিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

এছাড়াও Lmited Liability Partnership হিসেবে আপনি নথিভুক্ত করতে পারেন যদি আপনার অংশীদারিত্বের বাধ্যবাধকতা সীমিত থাকে। এক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণ সংক্রান্ত কাজ সাধারন পার্টনারশিপের চেয়ে আলাদা এবং সরকারি নিয়মকানুনেও পার্থক্য রয়েছে।

তবে আপনি যেভাবেই এগোতে চান না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই কোনও বিশেষজ্ঞ (যেমন- চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট)-এর সাহায্য নিন।