অ্যামস্টারডামে সম্মানিত সমাজকর্মী কমল কর

0

সম্প্রতি অ্যামস্টারডামে হয়ে গেল সারফাতি স্যানিটেশন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। সেখানে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারে ভূষিত হলেন সিএলটিএস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ড. কমল কর। তবে তাঁকে শুধু সিএলটিএসের প্রতিষ্ঠাতা বললে পুরো পরিচয় দেওয়া হয় না। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষিতে উপযোগী একাধিক সুলভ প্রযুক্তির আবিষ্কারকও তিনি। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক , এডিবি, ইউনিসেফ, ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক এনজিওর তরফে একক উপদেষ্টা হিসেবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকায় কাজ করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর সিএলটিএস ফাউন্ডেশন স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, নেপাল, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, জাম্বিয়া, উগান্ডা এবং তানজানিয়ায়। ভারত, মঙ্গোলিয়া, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়ায় নগর দারিদ্র দূরিকরণ, বসতি উন্নয়ন, স্থানীয় প্রশাসনিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় এই ফাউন্ডেশন।

ড. স্যামুয়েল সারফাতি ছিলেন অ্যামস্টারডামের একজন শিল্পপতি যিনি উনিশ শতকে অ্যামস্টারডামকে মনুষ্য বর্জ্যমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই বর্জ্য থেকে সার তৈরি করে সেটি গম চাষে ব্যবহারের ব্যবস্থা করে শহরের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করেছিলেন। তার নামানুসারেই সারফাতি স্যানিটেশন অ্যাওয়ার্ডের অবতারনা। এই সম্মান সেইসব অন্ত্রপ্রেনিওরদের দেওয়া হয় ‌যাঁরা বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। এবছর এই জুরি সর্বসম্মতভাবে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে ড. কমল করকে। তাঁর মডেল যেভাবে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার কোটি কোটি মানুষকে বাড়িতে টয়লেট তৈরিতে অনুপ্রাণিত করেছে তা সত্যিই অভিনব। অ্যামস্টারডামের মেয়র এবারহার্ড ভ্যান ডের লান ২ নভেম্বর অ্যামস্টারডাম ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার উইকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেন।

‘এখনও অনেক কাজ বাকি’, পুরস্কার নিয়ে এটাই প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল ড. করের। তিনি বলেন, ‘আগামী ৪ থেকে ৫ বছরে বিশ্বের অন্তত ৪-৫ টি রাষ্ট্রকে ‘ওপেন ডেফিকেশন ফ্রি‍’ করা গেলে তবেই ‘ওডিএফ মুক্ত‍ বিশ্ব’র স্বপ্ন দেখতে পারি আমরা।’

অনুষ্ঠানে সাফিসানা নামে একটি সংস্থা তরুণ অন্ত্রেপ্রেনিওর হিসেবে পুরস্কার নেয়। ঘানার আক্রায় জৈব বর্জ্য থেকে সার এবং বায়োগ্যাস তৈরির জন্য সম্মানিত করা হয় সাফিসানাকে।