লিমকা রেকর্ডে স্থান পেল রায়গঞ্জের কুলিক

0

রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাসের মুকুটে নতুন পালক। এশিয়ার বৃহত্তম ওপেন বিল স্টর্ক কলোনির স্বীকৃতি পেল কুলিক। শামুকখোল (ওপেন বিলস্টর্ক) পাখির সংখ্যার হিসাবে পৃথিবীর এক নম্বর স্থান দখল করল রায়গঞ্জের এই পক্ষীনিবাস। এই মুহূর্তে কুলিকে পাখির সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। যার মধ্যে ওপেনবিল স্টকের সংখ্যাই ৪৭ হাজার। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এশিয়ার বৃহত্তম ওপেন বিল স্টর্ক কলোনি হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে লিমকা বুক অফ রেকর্ডসে। এর আগে কাম্বোডিয়া ছিল প্রথম স্থানে। তাকে পিছনে ফেলে কুলিক পক্ষীনিবাস উঠে এল প্রথম স্থানে। কিছুদিন আগেও এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পক্ষীনিবাস ছিল কুলিক।

রায়গঞ্জ শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে সোহারই, ভট্টদিঘি ও আবদুলঘাটা এই তিন মৌজার প্রায় ৩৭০ একর জায়গা জুড়ে কুলিক পক্ষীনিবাস গড়ে উঠেছে। পক্ষীনিবাসের একদিকে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক আর অন্যদিকে তিরতির করে বয়ে চলা কুলিক নদী। উত্তর-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এপ্রিল-মে নাগাদ পরিযায়ীরা (ওপেন বিল স্টর্ক, কর্মোন্যান্টাল ইগ্রেট, নাইট হেরন) এই পক্ষীনিবাসে আসে। বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে উড়তে শেখার পর নভেম্বর নাগাদ পাখিগুলি পুরনো ঠিকানায় ফিরে যায়।

২০১১ সালে এই পক্ষীনিবাসে পাখির সংখ্য এক ধাক্কায় কমে অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল। সমস্যার সমাধানে তৎকালীন ডিএফও অপূর্ব সেনের উদ্যোগে জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া থেকে পক্ষীবিশেষজ্ঞ গোপীনাথন মহেশ্বরণ কুলিকে এসে গবেষণা চালিয়ে পরিযায়ী পাখি কমে যাওয়ার কতগুলি কারণ উল্লেখ করে যান। তাঁর পরামর্শ মেনেই বন দফতর স্বল্প গভীরতার কয়েকটি নতুন জলাশয় খনন করে পাখিদের খাবারের সমস্যা মেটানোর ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি পক্ষীনিবাস সংলগ্ন জাতীয় সড়কের অংশটুকুকে সাইলেন্স জোন ঘোষণা ও পাখিদের প্রজণনের মরশুমে পর্যটকদের আনাগোনাও নিষিদ্ধ করে দেয় এই পক্ষীনিবাস। পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে গোটা পক্ষীনিবাস লোহার জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। মহেশ্বরণের প্রেসক্রিপশন মেনে হাতনাতে ফল পেয়েছে বনদফতর। ২০১২ সাল থেকে কুলিকে পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকে, বিশেষ করে শামুকখোল। ২০১২ সালে যে সংখ্যাছিল ৩৯,৮৩৬টি, ২০১৫য় এসে সেই সংখ্যা দাঁড়াল ৪৭,১৮০তে।

মূলত অনুকূল জলবায়ু এবং প্রজননের উপযুক্ত স্থান বলে বহু পরিযায়ী পাখিও আসে রায়গঞ্জের এই কুলিক বনাঞ্চলে৷ তাছাড়া কুলিক নদী, এবং আশপাশের ঝিল, বিল, খালে পাখিদের আহারের জন্য রয়েছে প্রচুর জলজ প্রাণী৷ নিরিবিলি, নিরাপদ আশ্রয়ের টানে ফি-বছর উড়ে আসা পরিযায়ীদের খাবারের জন্য ঝিল, বিল, নদী-খাল রয়েছে৷ জল শুকিয়ে গেলে বনাঞ্চলের জলাশয়ে পাম্পের সাহায্যে জল সরবরাহ করা হয়৷ অল্প জলে ভেজা মাটির উপর ছোট ঘাসজঙ্গলে ও ধান খেতে ধীরে ধীরে হেঁটে খাবার সন্ধান করে এসব পাখি৷ তাই ঝিল, বিল, খালে মাছ ছাড়া হয় প্রতি বছর৷রায়গঞ্জের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার দ্বীপর্ণ দত্তের কথায়, ‘এই পক্ষীনিবাস শুধু উত্তর দিনাজপুর নয়, সমগ্র উত্তরবঙ্গের গর্ব। এর ফলে কুলিক পক্ষীনিবাসকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে এখানে’।