দেশ সেবাই লক্ষ্য জলপাইগুড়ির ডানপিটে কন্যা ঐশিকার

0

জলপাইগুড়ির মেয়ে ঐশিকা রায়। আকাশে আওয়াজ হলেই ছুট্টে বাইরে। হাঁ করে তাকিয়ে থাকত। মনে মনে কীসব ভাবত। বাবা-মা তখন বুঝতে পারতেন না, মাথার ওপর দিয়ে সাঁই সাঁই করে ফাইটার প্লেন উড়ে গেলেই চনমন করে উঠত কেন। এখন বোঝেন, ছোট্টবেলা থেকে মেয়ের স্বপ্নটা ঠিক কী। তাঁর লক্ষ্যের দিকে একধাপ একধাপ করে এগোচ্ছে ঐশিকা। এনসিসিতে যোগ দিয়েই দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ভিভিআইপিদের গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়।

রাজ্য থেকে এই প্রথম কোনও মহিলা দিল্লির রাজপথে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য পাইলট নির্বচিত হন। ইতিমধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি দিল্লির রাজপথে প্রধানমন্ত্রী সহ দেশের সেনা, বায়ুসেনা ও নৌসেনার মতো পদাধিকারীদের পাইলটের দায়িত্ব পালন করে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করেছেন ঐশিকা। ভূমিকন্যার সাফল্যে গর্বিত উত্তরবঙ্গ।

জলপাইগুড়ির আনন্দচন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এই ছাত্রী ছোটবেলা থেকে দেশের সেবা করতেই চাইতেন। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেয়ে প্রধানমন্ত্রীর রেলি, জনপথ রেলি এবং গার্ড অব অনারের তিনটি বিভাগের জন্য ট্রেনিং নিতে যান দিল্লি। তার মধ্যে রাজপথে মার্চ পাস্ট করার জন্য ১২০ জন নির্বাচিত হন। অন্যদিকে ৩ হাজার জনের মধ্যে ২ জন পাইলট হিসেবে নির্বাচিত হন। তাদেরই একজন ঐশিকা রায় এবং অন্যজন উত্তরপ্রদেশের অর্চনা পাণ্ডে। দিল্লিতে একমাসের বিশেষ ট্রেনিং শেষে ২৬ জানুয়ারি রাজপথে উপরাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী, দেশের তিন বাহিনীর প্রধানদের গার্ড অব অনার দেন এই দুই কন্যা। দিল্লির রাজপথে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনারে গুড পারফরমেন্সের জন্য এআরডিসি ২০১৬ মেডেল পান ঐশিকা। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ২৬ ফেব্রুয়ারি ঐশিকাকে গভর্নর মেডেল দিয়ে উৎসাহিত করেন। ‘দেশের নারীশক্তিকে উৎসাহিত করতে আমি বায়ুসেনাতে যোগ দিতে চাই। বায়ুসেনা না হলে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করব। তার মাধ্যমে দেশের সেবায় ব্রতী হতে চাই’, বলছিলেন ঐশিকা। জলপাইগুড়ি কন্যার মতে, ‘ছোটবেলা থেকে সবার লক্ষ্য ঠিক করে নেওয়া উচিত। আর সব মেয়েরই এনসিসি করা উচিত। আমাদের মতো মেয়েদের দেশের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের গুটিয়ে রাখলে চলবে না’।

মেয়ের সাফল্যে গর্বিত বাবা ইন্দ্রনীল রায় ও মা দেবযাণী রায়। ‘ছোটবেলা থেকে চেষ্টা ছিল। তবু মেয়ে এতবড় সাফল্য পাবে ভাবতেই পারিনি। দেশের সেবা করতে চায় শুনে গর্বে আমাদের বুক ভরে যাচ্ছে’, বলছিলেন ঐশিকার গর্বিত মা। ঐশিকাকে নিয়ে গর্বিত জলপাইগুড়িবাসী, গর্বিত উত্তরবঙ্গ। ভূমিকন্যা বলে কথা। আর সেই ভূমিকন্যা বলছেন, ‘সবে তো শুরু। আরও অনেকটা পথ পেরোতে হবে আমাকে’।