জীবনে চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাই পল্লবী ফোলের সাফল্যের রহস্য

একজন ব্যবসায়ীর জীবনে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। প্রতিদিন দরজায় কড়া নাড়বে চ্যালেঞ্জ। এসব নিত্যদিনের চ্যালঞ্জকে হয় উপেক্ষা কর অথবা কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোকে অতিক্রম করে এগিয়ে চলো। ‘পল্লবী ফোলে বুটিক জুয়েলস’-এর মালিক পল্লবীর এটাই জীবন দর্শন। আর এই জীবন দ‌র্শনকে হাতিয়ার করে আজ তিনি দেশের এক অন্যতম জুয়েলরি বুটিকের কর্ণধার।

0

নৈনিতালের শেরউড কলেজে পড়ার সময় থেকেই শিল্পকলার প্রতি অমোঘ আকর্ষণ ছিল পল্লবীর। নৈনিতালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাঁকে টানত। স্কেচে পারদর্শী পল্লবী ড্রয়িং খাতা আর পেনসিল নিয়ে হামেশাই বসে পড়ত পাহাড়ের ধারে। তাঁর ড্রয়িংয়ের পাতায় পাতায় ফুটে উঠত প্রকৃতির অনন্য রূপ।

কলেজের পাঠ শেষ করে পল্লবী পাড়ি দেন দিল্লিতে। সেখানে এনআইএফটি থেকে ২০০০ সালে ফ্যাশন ডিজাইনে স্নাতক হওয়ার পর যোগ দেন তানিষ্কে। টাটার এই স্বর্ণালঙ্কার সংস্থায় দশ বছরের ওপর কাজ করেছেন পল্লবী। এখানে কাজ করতে করতেই নিজের একটা বুটিক করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। তানিষ্কের মত সংস্থায় এতদিনের অভিজ্ঞতা তাঁকে সমৃদ্ধ করেছিল। এরপর তানিষ্ক ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে শুরু করেন নিজের জুয়েলরি বুটিক পল্লবী ফোলে বুটিক জুয়েলস।

সৃজনশীল ভাবনার নতুন নতুন অলঙ্কার তৈরি করে অল্প সময়ের মধ্যেই সুনাম অর্জন করতে শুরু করেন পল্লবী ফোলে। প্রতিটি অভিজ্ঞতাই তাঁর জন্য ছিল নতুন ডিজাইন গড়ার অনুপ্রেরণা। স্কুলে পড়ার সময়ের একটা ঘটনা এখনও তাঁকে নতুন ভাবনার জন্ম দিতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর ঠাকুমার তখন কেমো চলছে। থার্ড লেভেল ক্যানসারে আক্রান্ত তিনি। সেই অবস্থাতেও নাতনির সাফল্যে তাকে উৎসাহ দিতে পল্লবী স্কুলের পুরষ্কার বিতরণীতে হাজির হলেন ঠাকুমা। আঁকার জন্য পল্লবীর পাওয়া পুরষ্কার নিজে হাতে স্টেজে উঠে গ্রহণ করেন সেই মরণাপন্ন বৃদ্ধা। সে ঘটনা আজ এতদিন পরেও পল্লবীকে উজ্জীবিত করে, অনুপ্রাণিত করে।

দেশ বিদেশে ঘুরতে ভালবাসে পল্লবী। সেখানকার সংষ্কৃতি, শিল্পকলা সম্বন্ধে জানতে ভালবাসে। এসবই তাকে নতুন ভাবনার খোরাক দেয়। সমৃদ্ধ করে। পল্লবী বিশ্বাস করে শিল্পের স্ত্রী- পুরুষ হয়না। নারী পুরুষ নির্বিশেষে যেটা দরকার সেটা হল সৃষ্টিশীল ভাবনা আর তা ফুটিয়ে তোলার মত দক্ষতা।

ওরলান্দো ওরলান্দিনির কাজে অনুপ্রাণিত পল্লবী জীবনে তিনটে জিনিসকে বিশষ গুরুত্ব দেন। এক, চেষ্টা করে গেলে সাফল্য মিলবেই, দুই, জীবনে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা আবশ্যক আর তিন, নিজের পরিবার ও কাছের বন্ধুদের ভালবাসা, যাঁরা তাঁর জীবনে ভরসার স্তম্ভ হিসাবে রয়েছেন। এক্ষেত্রে স্বামী ও মেয়ের অবদান অকুণ্ঠভাবে স্বীকার করেছেন পল্লবী।

বর্তমানে ভারতের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে রয়েছে পল্লবীর ক্লায়েন্ট। নিজে তো বটেই, সেই সঙ্গে নতুন নতুন ডিজাইন ভাবা, সেগুলিকে মৌলিক ভাবনায় সাজিয়ে তোলার জন্য পল্লবীর সঙ্গে কাজ করে চলেছে একটা গোটা টিম। শুধু দেশই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও তাঁর ক্লায়েন্টের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাঁর স্টুডিওতে ডিজাইন করা জুয়েলারি আন্তর্জাতিক বহু ডিজাইন কলেজের পাঠক্রমে জায়গা করে নিয়েছে। সেখানে পড়াতেও যেতে হয় তাঁকে। কাজের ফাঁকে এই পড়ানোর সুযোগ তাঁকে আনন্দ দেয় বলে জানিয়েছেন দেশের এই অন্যতম সেরা জুয়েলারি ডিজাইনার। দেশের দুই অন্যতম সংস্থা এনআইএফটি ও জিআইএতে নিয়মিতভাবেই অতিথি শিক্ষক হিসাবে পড়াতে যেতে হয় তাঁকে। বেষ্ট অ্যাকসেসরি ডিজাইন বিভাগে এনআইডি বিজনেস ওয়ার্ল্ড ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড জিতে পল্লবী বিদেশের মাটিতে ভারতীয় শিল্পকে ইতিমধ্যে ই একটা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর ‘আমরা’ শীর্ষক সংগ্রহ এখনও বিদেশী ডিজাইনারদের কাছে একটা অন্যতম চর্চার বিষয়।