পয়লাপাতে কব্জি ডুবিয়ে ফিউশন ভোগ সপ্তপদীতে

0

সপ্তপদী।বাঙালির মন আজও নাড়া দিয়ে যায় মহানায়ক উত্তমকুমার আর সুচিত্রা সেনের সেই কালজয়ী সিনেমা। উত্তম-সুচিত্রা যে বাঙালির কতটা জুড়ে রয়েছে ভালোই বুঝেছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা রঞ্জন বিশ্বাস। তাই আরামের চাকরি ছেড়ে যখন দুই পার্টনারকে নিয়ে নিজেদের রেস্তেোরাঁ খুলবেন বলে স্থির করলেন তখনও থিম হিসেবে বেছে নিলেন বাংলা সিনেমার সর্বকালের হিট জুটির হিট সিনেমাগুলির একটিকে। আর মনে মনে ভেবেছিলেন এই পথ যদি না শেষ হয়...বাঙালি আর বাঙালিয়ানার সেই সেন্টিমেন্টকে ছুঁয়ে যেতেই নাকি রেস্তোরাঁর এমন নাম।

বাঘাযতীন আর হিন্দুস্তান পার্ক। আপাতত সপ্তপদীর দুটি শাখা। তিন বাঙালি উদ্যোক্তার ব্রেনচাইল্ড সপ্তপদীর অভিনবত্ব হল, খাবারে ফিউশন। দেখতে ভিনদেশি, চাখতে বাঙালি।শুধু পদেই না, পদে পদে এমন অভিনব মিশেল। রেস্তোরাঁর দুটি শাখাই এভাবেই সাজিয়েছে তাঁদের পয়লা বৈশাখের উদযাপন। মেনু থেকে শুরু করে অন্দরসজ্জা,সব কিছুতেই অভিনব ফিউশন এখানে ।

শেফ হিসেবে তাজবেঙ্গল থেকে শুরু করে বহু পাঁচ তারা হোটেলে কাজ করেছেন হোটেল ম্যানেজমেন্টের ছাত্র রঞ্জন বিশ্বাস। বৈদিক ভিলেজে কাজ করার সময় আলাপ হয় সহকর্মী স্বরূপ মণ্ডলের সঙ্গে। নিজের কিছু একটা করাতে হবে। ভাবনার বীজটা ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হচ্ছিল মনে মনে। স্বরূপের সঙ্গে গল্প করতে করতে আবিষ্কার করেন দুজনের ভাবনা একই ধারাতে বইছে। ১০ বছর চাকরির পর সেই পাট চুকিয়ে দেন রঞ্জন। এবার শুরু নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লড়াই। সঙ্গে বন্ধু স্বরূপ মণ্ডল এবং অন্তরা ঘোষ। তিন উদ্যোক্তা প্রথমে বিধানসরণীতে রোস্তোরাঁ খোলেন। খাবারে অভিনবত্ব থাকবে সেই ভাবনা ছিল প্রথম থেকেই। বাঙালি খাবার কন্টিনেন্টাল স্টাইলে তৈরি করে চমকে দিলেন রঞ্জনরা। বছর খানেকের মধ্যে রেস্তোরাঁর ঠিকানা বদলে চলে আসে বাঘাযতীনে। এখানে অবশ্য বাঙালি পদ বেশি গুরুত্ব পেলেও, ফিউশন আইটেমও আছে কিছু কিছু।

তবে বাঙালি খাবারে ফিউশন এক্কেবারে নতুন রূপে ধরা দেবে সপ্তপদীর হিন্দুস্তানপার্কের শাখায়। এক একটা পদ দেখেই জিভে জল। ডায়েট তাকে তুলে কাঁটাচামচের কেরামতি দেখাতে মন আনচান করবেই। বঙ্গরসে ভিন্ন অঙ্গসজ্জা। আর তাতেই হট এবং হিট। তবে এমন আয়োজনেই অবশ্যা থমকে থাকেনি চমক । চৌকাঠের ওপারে দাঁড়িয়ে বাঙালির বহু প্রজন্মের প্রেম উত্তম সুচিত্রা। সেই আইকনিক সপ্তপদী বিভঙ্গে। অন্দরেও ভুঁই-বিভুঁইয়ের মিলমিশ। আধুনিক প্লেট,কাপ,কাঁটাচামচের গায়েই মাটিরঙে গ্রামবাংলার গন্ধ মাখানো। ‘চিরকালীন বাঙালি পদেই সাজানো মেনু কার্ড। ভাত,কষা মাংস,চিংড়িমাছের মালাইকারির সর্বকালীন সুপারহিট ব্যা ঞ্জন। আর ফিউশনে তৈরি মুড়ি ফিশ টেক, কাঁচালঙ্কা পোস্ত-চিকেন, ক্যাপিচিনো কষা মাটন, অরেঞ্জ অ্যান্ড কাঁচালঙ্কা মুজ, আইসক্রিম পাটিসাপটা। বাঙালি খাবারে নতুন টাচ আনতে এই পদগুলি নিয়ে এসেছে সপ্তপদী’, বলেন রঞ্জন।

খানাপিনায় তাই বাঙালিয়ানার এহেন জয়জয়কারে বোশেখশুরুর দিনে গুরুভোজের আয়োজন। পাত পেড়ে ভুড়ি ভোজ-পয়লা বৈশাখের প্যাকেজ । ষোলো থেকে আঠারো পদের এক একটি থালি। চিতল মাছের মুইঠ্যা,কচি পাঁঠার ঝোল যেমন থাকবে, থাকবে ফিউশন মুড়ি ফিশ টেকের মতো পদও। থালি কিন্তু তেমন মহার্ঘ নয় মোটেই। ৬০০ টাকায় আনলিমটেড। অতএব দেরি কেন? পয়লা পাতেই কব্জি ডুবিয়ে বঙ্গভোজ থুড়ি, ফিউশন ভোগ হয়ে যাক।

এতো গেল পয়লা আয়োজন। রঞ্জনরা কিন্তু থেমে নেই। সারা বছর সপ্তপদীর দুই শাখায় মিলবে ফিউশনের লোভনীয় পজগুলি। এর মধ্যে কলকাতায় সপ্তপদীর আরও ২টি আউটলেট খোলার ভাবনা চিন্তা শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই মাইলস্টোনটা পেরোলেই বাঙালি রসনার এমন কন্টিনেন্টাল ফিউশন নিয়ে বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে মুম্বইতেও হাজির হওয়ার কথা ভাবছেন সপ্তাপদীর তিন কর্ণধার।