গড়বেতার হারাধন কারিগর লড়াই পেয়েছেন সম্মান

1

রূপোর গায়ে কল্পনা ফুটিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন রাইসিনা হিলসে। দেশের সেরা পুরস্কার নিয়ে এসেছেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে। সেই ছোট্ট বেলা থেকে অভ্যাস। মাটির তাল হোক বা কাগজের টুকরো। হারাধনের হাতে যেন জাদু। ছোঁয়াতেই প্রাণ পেয়ে যেত সবকিছু। পুরও নাম হারাধন দাস। গড়বেতার এক হস্তশিল্পী।

গড়বেতার ছোট্টগ্রাম হলদিনালা। এখানেই বেড়ে ওঠা হারাধনের। শিল্পীসত্ত্বা ছিল ছোটবেলা থেকেই। আপনমনে আঁকিবুকি, নানা কিছু তৈরি করতে করতে কবে যে রূপোর কাজে হাত পেকে গিয়েছে বোঝাই যায়নি। নানারকম গয়না, মূর্তি, চালচিত্র, শোপিস একের পর এক অসামান্য সব সৃষ্টির জন্ম দিয়েছেন হারাধন। হলদিনালা ছাপিয়ে আশেপাশের গ্রামেও বেশ নামডাক বছর ৩৭এর এই মগ্ন শিল্পীর। রূপোর কাজ করতে করতেই তামায় হাত লাগান। তামার গায়ে শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলেন নিপুণ কারুকার্যে। তামার এক শঙ্খ তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের নির্বাচকদের। অজ পাড়া গাঁয়ের শিল্পীর সৃষ্টিকে হেলায় ফেরাতে পারেননি তাঁরা। কঠিন থেকে কঠিনতর ধাপ একে একে পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন রাইসিনা হিলসের পুরস্কারের মঞ্চে।

এর আগেও বহু পুরষ্কার তার ঝুলিতে এসেছিল। এবার জাতীয় পুরষ্কারটা পেয়ে সেই সাফল্যের বৃত্ত যেন পূর্ণ হল। ‘অনেক পরিশ্রম করেছি। মনে মনে বিশ্বাসও ছিল। তার ফল পেলাম। রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়ে আত্মবিশ্বাস একলাফে বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। ভবিষ্যতে আরও অনেক ভালো ভালো শিল্পসৃষ্টির পথে এগিয়ে যাব’, বলছিলেন শিল্পী হারাধন দাস।

শুরুটা রূপোর কাজ দিয়ে হলেও দিনে দিনে তামার কাজে তাঁর নিপুনতা ফুটে উঠেছে। গড়বেতায় ছোট্ট একটা দোকান আছে হারাধনের। গ্রামে ঢুকলেই অসাধারণ সব শিল্পকর্মে ঠাসা দোকানটি থেকে নজর ফেরানো যায় না। ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকে। কেউ বরাত দিয়ে যাচ্ছেন, আবার কারও মন লেগেছে দোকানে সাজানো রুপো-তামার গয়না বা শোপিসে। ভিন্ন মেলাতেও তাঁর হাতে তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে পৌঁছে যান হারাধন। ‘মেলায় স্টল দিলে ভালোই লাভ। নিজেই নিয়ে যাই। তাতে মানুষের চাহিদা বোঝা যায়’, বলেন শিল্পী।

রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার প্রাপ্তিই যেন তাকে ১৯ বছরের এই দীর্ঘ পরিশ্রমের সাফল্য এনে দিয়েছে। এখানেই থামতে চান না শিল্পী। আরও অনেক কাজ বাকি। কত পরিকল্পনা মাথায় গিজগিজ করে। সেসবকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। আমাদের শুভেচ্ছা রইল শিল্পী হারাধনের জন্য।

Related Stories