এবারের বাজেট ঠিক কী রকম হবে?

0

২০১৭-২০১৮ সালের বাজেট ঘিরে এখন অনেক কৌতূহল। মার্চের পরিবর্তে ফেব্রুয়ারির গোড়ায় বাজেট পেশ করা হচ্ছে। অনেক দিক থেকেই এবছরের বাজেটের বিশেষত্ব থাকছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতি বছর রেল বাজেট পৃথকভাবে পেশ করাটাই ছিল দস্তুর। এবার কিন্তু প্রথমবার রেল বাজেটকে সাধারণ বাজেটের সঙ্গেই পেশ করা হবে।

বিমুদ্রাকরণের জের দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে অটো মোবাইল, এফএমসিজি-সহ আরও কিছু ক্ষেত্রে। মনে করা হচ্ছে, সাধারণ বাজেট ও রেল বাজেটে কিছু ফিল গুড ফ্যাক্টর থাকবে। এক্ষেত্রে ২০১৭-২০১৮ সালের বাজেটের নতুন আশাগুলি কী হতে পারে, তা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। এখানে কয়েকটির উল্লেখ করা হল –

আয়কর কাঠামো পুনর্গঠন

দেশের কর্পোরেট সংস্থাগুলি, ব্যাঙ্কার এবং সাধারণ মানুষও অসীম আগ্রহে প্রত্যাশা করছেন আয়করের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক রদবদল হতে পারে। নতুন আয়কর ব্যবস্থা চালু হলে তা কর্পোরেট সংস্থা ও সাধারণ করদাতা – উভয়ক্ষেত্রেই প্রযুক্ত হবে। ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে মোট ৪ লক্ষ টাকা বছরের রোজগার হলে তবে আয়কর দিতে হবে। আগে সেটা ছিল ২.৫ লক্ষ। বলাবাহুল্য, ব্যাপারটা বাস্তবায়িত হলে তা অনেকের কাছেই খুশির খবর হয়ে উঠতে পারে।

গুড অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স

জিএসটি ইতিমধ্যে বহুল আলোচিত একটি বিষয়। আসছে বাজেটেই জিএসটি কার্যকর হতে চলেছে বলে সব ঠিক। সেক্ষেত্রে্ সহজে কর প্রদান করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিনিময়ে ক্যাশলেস ব্যবস্থা

বিমুদ্রাকরণের তীব্র ঝাঁকুনির পরে আগামী বাজেটে সরকার ক্যাশলেস বিনিময় ব্যবস্থাকে আরও পরিকল্পিতভাবে শক্তিশালী করতে চাইবে, এটা ধরেই নেওয়া যায়। এটা করতে গিয়ে বহুক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট চালু করা হতে পারে। ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নানান ছাড়ে্র ব্যবস্থাও চালু করা হতে পারে। তাছাড়া, ব্যাঙ্কে টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু নতুন সুযোগ-সুবিধা চালু করা হতে পারে।

রেলে বিনিয়োগ বাড়ানো

সাধারণ বাজেটের সঙ্গেই এবার পেশ করা হচ্ছে রেল বাজেটও। এই প্রথমবার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী রেলওয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষভাবে নজর দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি কানপুরে ফের আর একটি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলের আধুনিকীকরণ দীর্ঘদিন ধরে হব হব করেও হয়নি। বাজেটে এবার সেদিকটিও গুরুত্ব পাবে বলে আশা। তাছাড়া, আশা করা যায় কয়েকটি নতুন ট্রেন চালু হতে চলেছে। নন-এসি ক্লাসগুলিতে যাত্রীস্বার্থের দিকে লক্ষ্য রেখে ভাড়ায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসি-র ভাড়া কিন্তু কমার কোনওই আশা নেই।

সরকারি পরিকল্পনায় ফের গতি

সরকার ইতিমধ্যে একাধিক প্রকল্প নিয়েছে এদেশের স্টার্ট আপগুলির বিকাশে। যেমন, স্কিল ইন্ডিয়া, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া কিংবা মেক ইন ইন্ডিয়া। স্টার্ট আপগুলিকে সহজে পুঁজির জোগান দিতে কতিপয় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে জানুয়ারিতে বেশ কিছু পরিমাণ বিদেশি পুঁজি ভারত থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে নিচ্ছে।

বাসস্থান সংক্রান্ত সুবিধা

গত বাজেটে ঘোষিত হয়েছিল স্বল্প খরচে মাথার ওপর নিজস্ব ছাদ পাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ কিছু সরকারি সুবিধার প্রকল্প। সেক্ষেত্রে গৃহঋণে সুদের হার ইত্যাদিতে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। ঋণ পাওয়ার পদ্ধতিও সহজ করা হয়েছিল। ২০১৭-২০১৮ সালের বাজেটেও এই সুবিধাগুলি সম্প্রসারিত করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃষিতে গতিও লক্ষ্য

বিমুদ্রাকরণের জেরে কৃষকের দুরবস্থা নিয়ে বহু সংবাদ ইতিমধ্যে প্রচারিত হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে খাদ্যসঙ্কটের স্‌‌ম্ভাবনার বিপদের মুখে পড়তে হতেই পারে। এটা মাথায় রেখে কৃষকদের জন্যে বিশেষ কিছু সুযোগ ঘোষিত হতে পারে কেন্দ্রীয় বাজেটে। বিশেষত, তাঁদের ক্যাশলেস ব্যবস্থায় আনতে উদ্যোগী হবে সরকার।

কর বাড়তে পারে তামাক, মদ, বিলাসদ্রব্য ও রফতানি পণ্যে

প্রতি বাজেটেই তামাকজাত পণ্য কিংবা মদের দাম অনেকটা বাড়ানো হয়ে থাকে। এ থেকে সরকার ভালো রাজস্ব আদায় করে থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রফতানিকৃত পণ্য – যেমন, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বা গাড়ি অথবা সোনার ক্ষেত্রে কর বাড়তে চলেছে।

সবমিলিয়ে যেটা অনুমান করা হচ্ছে. অতীতের বাজেটগুলির তুলনায় ২০১৭-২০১৮ সালের বাজেট অনেকটাই অন্যরকম হতে চলেছে। তবে সরকার চাইবে বিদেশি ও দেশি পুঁজির পক্ষে একটা ফিল গুড পরিবেশ গড়ে তুলতে। যা ভবিষ্যতের পক্ষে হবে মঙ্গলের।