ঐতিহ্য আর আধুনিকতার ফিউশন Garo-র USP

2

ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশো‍নার সময় থেকে নিজের জাত চিনিয়ে দিতে পেরেছিলেন প্রিয়াংশু মাজি। কলেজের ফ্যাশন শোয়ে পুরস্কার বাঁধা ছিল তাঁর জন্য। বিখ্যাত ফ্যাশন হাউস সব্যসাচী কোচারের সঙ্গে ৩ বছর কাজও করেছেন। কিন্তু সব সময় মনের কোণে পুষে রেখেছিলেন নিজের ব্র্যান্ড তৈরির ইচ্ছে। বছর চারেক আগে NIFT এর প্রক্তনী শ্বেতা তাঁতিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে গড়ে তোলেন তাঁদের ব্র্যান্ড ‘গারো’। অসমের গারো একটি উপজাতি। তাদের জীবন, তাদের শিল্পবোধ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ওরা তৈরি করেছেন ওদের ফ্যাশন প্রোডাক্ট। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনকে মিলিয়ে দেওয়াটাই ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ। দেশের নানা প্রান্তের উপজাতিদের পোশাকের ছোঁয়া পাওয়া যাবে গারোর ডিজাইনে। গারো—কলকাতায় এখন বেশ নামী ফ্যাশন ব্র্যান্ড। আধুনিকতা, নিজস্বতা থাকলেও ঐতিহ্যের সম্ভার ওদের ডিজাইনকে সমৃদ্ধ করেছে। এমব্রয়ডারি, ভারতের দূর দূরান্তের প্রত্যন্ত গ্রামের বুননশৈলীর সঙ্গে আধুনিকতাকে মিশিয়ে এক অপূর্ব শিল্প উপহার দিচ্ছেন তরুণ দুই ডিজাইনার। মাধুরী দীক্ষিত থেকে সানিয়া মীর্জা, কালকি কোচলিন, জেরিন খানের মতো বলিউড তারকাদের কাছে ফেভারিট ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। উপজাতিদের উজ্জ্বল রঙিন ছাপা, মোটিফ যেখানে দেশীয় আদি কুটির শিল্পের ছাপ পাওয়া যায়, দুই তরুণ ডিজাইনার সেই ঐতিহ্যকে আধুনিকতার মোড়কে পেশ করেছেন। সম্প্রতি কলকাতায় সারদা শঙ্কর রোডে খুলেছেন ওদের প্রথম আউটলেট। ক্যালোঁ দ্য স্টোর। এখানে শুধু গারো নয়, অন্য তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন ডিজাইনাররাও তাদের ডিজাইন রাখতে পারবেন। ফলে তরুণ ডিজাইনারদের কাজ পাওয়া যাবে ক্যালোঁ-তে। ইতিমধ্যেই পায়েল প্রতাপ, ঊর্বশী কউর, অর্চনা রাউ, গৌরভ খানেজা, ধ্রুব এবং গারোর অসাধারণ সব কালেকশনে ঝলমল করছে ক্যালোঁ। পাশাপাশি আছে রোহিত গান্ধী, রাহুল খান্নার ডিজাইনে পুরুষদের পোশাক, প্রতিনাভার অ্যাক্সেসরিজ, দিল্লির নানা ফ্যাশন হাউসের গয়না। পুজোর আগে এটা একটা খাজানার সন্ধান নয় কি!