৩,০০,০০০ গাছ লাগালেন বাস কন্ডাক্টর যোগানাথন

1

অভিনব সবুজ অভিযান। নেতৃত্বে তামি‌লনাড়ুর একজন বাস কন্ডাক্টর। ভদ্রলোকের নাম এম যোগানাথন। ৪৯ বছরের যোগানাথন কোয়েম্বাটোরের বাসিন্দা। আশির দশক থেকে গাছ লাগানোটা তাঁর নেশার মতোন। এ পর্যন্ত যোগানাথন তামিলনাড়ুর ৩২টি জেলায় মোট ৩ লক্ষ গাছ লাগিয়েছেন।

আশির দশকে নীলগিরির লাগোয়া অঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছিল। যোগানাথন এর বিরুদ্ধে ময়দানে নামেন। ময়দানে নামা বলতে সেই সময় যোগানাথন তাঁর সাপ্তাহিক ছুটির দিন সোমবারে স্থানীয় স্কুলগুলিতে যেতেন। আর গাছের চারা রোপণ করতেন। যোগানাথন জানালেন, এভাবে কয়েক বছরের ভিতর স্থানীয় প্রতিটি স্কুলের চৌহদ্দিতে তিনি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তাঁর কর্মকাণ্ড তামিলনাড়ুর অন্যান্য জেলাগুলিতে্ও ছড়িয়ে দেন।

এই কাজের জন্যে তামিলনাড়ুর মোট ৩ হাজার স্কুলে ঘুরেছেন যোগানাথন। বাচ্চাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন গাছ লাগাতে। স্কুল পড়ুয়ারা তাঁর সেই ডাকে সাড়াও দিয়েছে।

এক্ষেত্রে যোগানাথন এক অভিনব পরিকল্পনা করেন। কোনও একজন ছাত্র বা ছাত্রী যে চারাটি রোপণ করবে গাছের নামের আগে তাঁর পিতৃদত্ত নামটিও থাকবে। এভাবেই পরিচিত হবে সেই গাছটি। যেমন, রামু নামে কোনও একজন ছাত্র একটি বটের চারা রোপণ করলে গাছটির নাম হবে রামু বট। ‌আর সেই পড়ুয়ার দায়িত্ব্ থাকবে গাছটির পরিচর্যার করার। যোগানা‌থন বললেন, ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ভালোই সাড়া মিলছে। আমি খুশি।

প্রথম দিকে নিজের উদ্দেশ্যকে সফল করতে যোগানাথনকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়েছেন। গাছ রোপণের কাজে সময় দিতে গিয়ে বাস কন্ডাক্টরির কাজে নিয়মিত সময়ে যেতে পারতেন না। এ জন্য গত ১৭ বছরে যোগানাথনকে ৪০ বার বদলি হতে হয়েছে। তাতেও দমানো যায়নি যোগানাথনকে। যোগানাথনের কথায়, যা করেছি সে সবই ওই গাছ লাগানোর জন্যে। এ পর্যন্ত নিজের ব্যক্তিগত কারণে কথনও একদিনের জন্যেও ছুটি নিইনি।

কাজের ফলস্বরূপ যোগানাথন পেয়েছেন সরকারি ও বেসরকারি একাধিক স্বীকৃতিও। পেয়েছেন রাজ্য সরকারের পরিবেশ দফতরের ইকো-ওয়ারিঅর পুরস্কার। তাছাড়া, সিএনএন-আইবিএন রিয়্যাল হিরো অ্যাওয়ার্ড, পেরিয়ার অ্যাওয়ার্ড। তাছাড়া, এখন সকলে বুঝতে পেরেছেন তাঁর কাজের মর্ম। যোগানাথন বললেন, চাকরি ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষও উদ্বুদ্ধ করছেন তাঁকে।