ক্যান্সার সচেতনতায় দুচাকায় দুনিয়া ঘুরছেন অনির্বাণ

1

ক্যান্সারের মতো মারণ রোগে মৃত্যু খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন অনির্বাণ। তখনই ঠিক করে নিয়েছিলেন কিছু একটা করতেই হবে। বেসরকারি সংস্থার চাকরি, আরামের জীবন সব এক ঝটকায় ছুড়ে ফেলতে বেশি সময় নেননি। নিজের প্রিয় সাইকেলটিকে সঙ্গী করে বেরিয়ে পড়েছেন রাস্তায়। উদ্দেশ্য সাইকেলে বিশ্বভ্রমণ। আর ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা।

একটু সচেতন হলে ক্যান্সারের মতো মারণরোগের হাত থেকেও বেঁচে ফেরা যায়। দেশে দেশে, শহরে, গ্রামে, পাড়ায়, মহল্লায় এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চান বছর বত্রিশের যুবক অনির্বাণ আচার্য।কলকাতার ঢাকুরিয়ার এই বাসিন্দা ছেলেবেলা থেকে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়। ট্রেকিং তো আছেই,নানা খেলাধূলায় অংশগ্রহণও নিয়মিত। বাঁধা গতের চাকরিতে তাই কোনও দিনই মন বসাতে পারেননি। নানা ছুতো নাতায় চাকরি ছেড়েছেন। আবার নতুন চাকরি পেয়েওছেন। কিন্তু পায়ের তলায় যে শর্ষে। শেষ চাকরিটিও ছেড়েছেন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে সাইকেলে বিশ্বভ্রমণে বেরোবেন বলে। ২০১৫র জুনে যাত্রা শুরু করে দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র,গোয়া, কর্নাটক, কেরল,তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা হয়ে কলকাতা ফেরেন। মাস দেড়েক বিশ্রামের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি ফের যাত্রা শুরু করেন। ইতিমধ্যে সাইকেলে চড়ে ২২টি জেলা ঘোরা হয়ে গিয়েছে। এবার নজর বিশ্বের দিকে। নদিয়া হয়ে শিলিগুড়ির দিয়ে অসমে,তারপর সেখান থেকে বাংলাদেশ হয়ে মায়ানমার, চিন, জাপান, থাইল্যন্ড, কোরিয়ার মতো এশিয়া মহাদেশের দেশগুলি ঘুরে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন। আগামী পাঁচ বছরে সাইকেলে সওয়ার হয়ে ১০০টি দেশ ঘুরে নিতে চান। রোটারি ক্লাব থেকে শুরু করে নানা সংস্থা, ক্লাব এবং নানা ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। ‘সাইকেল নিয়ে যাওয়ার পথে স্কুল-কলেজে ঢুঁ মারছি, পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলছি। কথা বলছি পথ চলতি মানুষের সঙ্গেও।সবাইকে ক্যান্সারের মতো মারন রোগ নিয়ে সচেতন করছি। ভিসা পাওয়া গেলে পাকিস্তানেও যাবো’, নদিয়ার কৃষ্ণনগরে যাত্রার বিশ্রামের ফাঁকে বলছিলেন অনির্বাণ।

বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন।যে কাজে নেমেছেন তাতে ঠিক কত খরচ হবে জানেন না অনির্বাণ।তার তোয়াক্কাও করেন না। লক্ষ্য একটাই। মানুষকে বোঝাবেন, ঠিক সময়ে ক্যান্সার ধরা পড়লে অথবা একটু সচেতন হলেই ক্যান্সারকে জয় করা বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে কঠিন কিছু নয়। প্রচারের তো আরও অনেক উপায় ছিল,সাইকেলে বিশ্বভ্রমন কেন. অনির্বাণের সহজ সরল উত্তর, ‘খুব কাছ থেকে ক্যান্সারের কাছে প্রিয়জনের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখতে হয়েছিল। ডাক্তাররা বলছিলেন,যখন ক্যন্সার ধরা পড়ে ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। কটাদিন সময় পাওয়া গেলে অন্তত বাঁচানোর চেষ্টাটুকু করা যেত। ওই ঘটনাটাই আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। ভাবতে থাকি কীভাবে ক্যান্সার নিয়ে মানুষকে সচেতন করা যায়। চোখ পড়ে প্রিয় সঙ্গী সাইকেলটির দিকে। ব্যাস, চলে এল আইডিয়াটা। সাইকেলে চড়ে বিশ্বভ্রমন আর ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রচার করব ভেবে নিলাম’। কিন্তু সাইকেল কেন? সেখানে অনির্বাণের যুক্তি, ‘সাইকেলে চেপে বিশ্বভ্রমন চাট্টিখানি কথা নয়। মানুষ আমাকে দেখে উদ্বুদ্ধ হবে। আর সেই সুযোগে ক্যান্সার সচেতনতা তৈরি করব আমি’।