বিদেশে পড়াশোনার সুলুক সন্ধান

0

ভাগ্যিস দামিনী আর অর্জুন নিজেরাও ঝঞ্ঝাটের মুখে পড়েছিলেন, নইলে বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক ছেলে-মেয়েদের যে কত ঝঞ্ঝাটে পড়তে হয়, সেটা তাদের অজানাই থেকে যেত। হয়তো উই মেক স্কলারস নামের পোর্টাল সংস্থাও দিনের আলো দেখত না কখনও। আরও একটু ভেঙে বলা যাক। অর্জুন কৃষ্ণা এবং দামিনী মহাজন তখন পড়ুয়া। বিদেশে পড়তে চান দু’জনেই। কিন্তু কোথায় রয়েছে ম‌নের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান? কোথায় বা মিলবে স্কলারশিপ? অর্জুনের কথায়, ‘‘এত বড় বিশ্ব, এত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান! কত বিজ্ঞাপন! হাজারো প্রতিশ্রুতি! সঠিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সন্ধান করা আর খড়ের গাদায় সুঁচ খোঁজা একই ব্যাপার।’’


ব্রিটিশ সরকারের স্কলারশিপে শেফিল্ড ইউনির্ভাসিটি থেকে মাস্টার্স করার পর দু’জনে ঠিক করলেন বিশ্বের তাবড় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনলাইনে কিছু একটা করতে হবে। নিজেদের চেনা, পরিচিতদের নিয়ে সোশাল মিডিয়া গ্রুপ করে তাঁরা ফেসবুকে তুলে ধরতে লাগলেন বিদেশে নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে হরেক তথ্য। ২০১৪ সাল। দামিনীদের মিডিয়া গ্রুপের জনপ্রিয়তা তখন তুঙ্গে। ইউজার সংখ্যা খুব কম করে হলেও দেড় লক্ষ।

চলো বদলাই


‘‘ফেসবুকে আটকে থাকতে আর মন চাইল না। নানা সমস্যা হচ্ছিল। আমরা ঠিক করলাম এমন একটা ওয়েবসাইট তৈরি করব যার সুফল পাবেন সব্বাই।’’ অনেক ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর পাওয়া গেল একটা নাম –WeMakeScholars.com । সেই খেকেই শুরু। দামিনীর কথায়, ‘‘গোটা বিশ্বে শিক্ষা ব্যবসার পরিধি বাড়ছে। শুধুমাত্র ভারত এবং চিন থেকে ফি বছর প্রায় ১০ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী বিদেশে পড়তে যাচ্ছেন। গত তিন বছরে ভারতে এই সংখ্যাটা বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ।’’ বলা যেতে পারে, উইমেকস্কলারসডটকম হল বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রী এবং বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটা যোগসূত্র। কোথায় কী পড়ানো হয়, কোন প্রতিষ্ঠান ভাল, কী করলে মিলবে স্কলারশিপ সমস্ত কিছুর সুলুক সন্ধান দিয়ে অর্জুন-দামিনীদের ওয়েবসাইট হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার।

ব্যতিক্রমী চেষ্টা, দারুণ ফল


কতগুলো দেশের পড়ুয়ারা উইমেকস্কলারসডটকম ব্যবহার করেন শুনবেন। সংখ্যাটা ২০০। গত পাঁচ মাসে এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করেছেন প্রায় ২০ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী। প্রশ্ন উঠতে পারে উইমেকস্কলারস কেন আলাদা। দামিনীর কথায়, ‘‘ভারতে একইরকম ওয়েবসাইট রয়েছে শুধুমাত্র ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য, আমেরিকায় রয়েছে মার্কিনদের জন্য। কিন্তু আমরা সব্বার জন্য। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পড়ুয়াদের আমরা পরিচয় করিয়ে দিই। তুলে ধরি নানান তথ্য এবং সেখানে যাঁরা পড়ছেন, তাঁদের নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা। এর ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক সুবিধা হচ্ছে।’’

নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, ‘‘শিক্ষা হল ব্রহ্মাস্ত। তাকে সঠিক‌ভাবে ব্যবহার করতে পারলে গোটা বিশ্বকে বদলে দেওয়া যায়।’’ উইমেকস্কলারসের স্লোগানও বোধহয় এটাই। মাত্র আটজন কর্মী। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্লগাররা সমৃদ্ধ করে চলেছেন এই ওয়েবসাইটকে। দামিনী জানিয়েছেন, বিশ্বের বেশ কয়েকটা সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁরা গাঁটছাড়া বাধার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এরপর? পথ যে আরও অনেক বাকি, সেকথা দামিনী ও অর্জুন খুব ভাল করেই জানেন। দুজনের লক্ষ্য একটাই উইমেকস্কলারসডটকম-কে আরও ইউজার ফ্রেন্ডলি করে তোলা। আরও আকর্ষণীয়, আরও তথ্যসমৃদ্ধ এবং সত্যিকারের ছাত্রবন্ধু।

Related Stories