কলকাতার মায়াবিয়াস, অখিল ভারতে প্রশংসিত

0

স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান, শক্তিমান এমনকি রামায়ন, মহাভারত। টেলিভিশনের পর্দা এখন অনেকটাই অ্যানিমেশনের দখলে। হাজারো গ্রাফিক্যাল প্রেজেনটেশন, অ্যাড, মুভি, স্পোটর্স আরও আরও অনেক। এই তালিকা শেষ হওয়ার নয়। যুগটাই অ্যানিমেশনের। টু ডি, থ্রি ডি অ্যানিমেশন রীতিমতো যাদুর খেল দেখায় ভারচুয়্যাল ওয়ালে। অ্যানিমেশনের বাজার দেশে, দেশের বাইরে-সারা বিশ্বজুড়ে। সুযোগও তাই নানামুখী। আর এই সুযোগের খনির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছিলেন এক বাঙালি তরুণ, অখিলবন্ধু পাল।

আর পাঁচটা সাধারণ ছেলের মত শুধু ছেঁড়া কাথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখেননি অখিল। রীতিমত রাস্তায় ধুলোয় ঘুরে ঘুরে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বজবজের এই শান্ত ছেলেটা।

জীবনে বড় হওয়ার ভালো কর্মী হওয়ার স্বপ্ন দেখত অখিল। হাফপ্যান্টের দিনগুলোয় ওর বন্ধুরা যখন ঘুড়ি লাটাই নিয়ে ছাদে ছাদে লড়ে বেড়াতো, মিশুকে অথচ মুখচোরা অখিল তখন ড্রয়িং খাতায় পালতোলা নৌকো আঁকত। ভাবটা এমন যেন বাণিজ্যেতে সে যাবেই। লক্ষ্মীরে হারায় যদি অলক্ষ্মীরে পাবেই...। 

বালাই ষাট। ইউরেকা ফোর্বসের সেলসম্যান থেকে শুধু প্রতিভা নিষ্ঠা আর ইচ্ছে শক্তিতে ভর করে একটি সংস্থা তৈরি করে ফেলতে পারার বিরল নজির গড়েছে অখিল। সে এখন সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অন্যতম তারা। টুডি, থ্রিডি, অ্যানিমেশন আর অ্যপ্লিকেশনের দুনিয়ায় বিশ্বস্ততম কারিগর। কম করে কয়েকশ যুবক যুবতীর রোল মডেল।

তথ্য প্রযুক্তি এবং অ্যনিমেশন, গ্রাফিক্যাল প্রেজেনটেশনে তুখোড় অখিলের নিজের দক্ষতার প্রতি বিশ্বাস ছিল। আর আস্থা রেখেছিলেন শ্রমের ওপর। সেই বিশ্বাসে ভর করেই ২০০৭ সালে কলকাতায় মায়াবিয়াসের পথ চলা শুরু। সময়ের সঙ্গে এই মায়াবিয়াস এখন অ্যানিমেশনের জগতে উজ্জ্বল নক্ষত্র। গত সাত আট বছরে এই বাঙালি উদ্যোক্তার অভিনব সব পরিকল্পনাই মায়াবিয়াসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। জাতীয় স্তরে পরিচিতি এনে দিয়েছে। স্বীকৃতিও পেয়েছেন প্রচুর। মুকুটে জুড়েছে নানা পুরস্কারের পালক। সিনেমার জগতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ য় চতুর্থ দাদাসাহেব ফালকে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল জুরি অ্যাওয়ার্ড ঝুলিতে ভরেছেন এই তরুণ তুর্কী।

প্রযুক্তি বিদ্যায় দক্ষ কয়েকজনকে নিয়েই টিম মায়াবিয়াস। তাদের নিয়েই সংস্থা পরিচালনা করেন অখিল। রিয়েল এস্টেট ইন্ডাস্ট্রির নকশা এবং গ্রাফিক্যাল সাপোর্ট, অত্যাধুনিক হাই-এন্ড প্রযুক্তি বিদ্যা, অ্যনিমেশন, আর্কিটেকচারাল ভিস্যুয়ালাইজেশন এবং নতুন প্রজেন্মের জন্য ডিজিটাল মিডিয়া ও অ্যনিমেশনে ট্রেনিং দেয় মায়াবিয়াস। অখিল জানান, ‘দু বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সংস্থা তথ্য প্রযুক্তির নানা প্রজেক্টে গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশন এবং সফটওয়ারে দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে আসছে। আপনি স্বপ্ন বুনবেন, আর টিম মায়াবিয়াস বদলে যাওয়া প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে এবং বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে তাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে। সফটওয়ার ডেভেলপমেন্টে (ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, ডেক্সটপ এপ্লিকেশন) বিশেষ করে অ্যনিমেশনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমরা সব ধরনের কাজ (ডিজাইন, ইম্প্লিমেন্টেশন, টেস্টিং)করি’।

মূলত অ্যানিমেশনের ওপর জোর দেয় মায়াবিয়াস। কী কী পাওয়া যাবে মায়াবিয়াসে একনজরে জেনে নিন-

  • থ্রি ডি অ্যানিমেশন
  • টু ডি অ্যানিমেশন
  • থ্রি ডি আর্কিটেকচারাল ভিসুয়ালাইজেশন অ্যান্ড মডেলিং কম্পোজিটিং
  • থ্রি ডি গ্রাফিক ডিজাইন অ্যান্ড ইলাসট্রেশন
  • ওয়েবসাইট অ্যাড ডিজাইন
  • ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন (ওয়েবসাইট ডিজাইন, প্রোগ্রামিং)
  • ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন
  • প্রেজেনটেশন ডিজাইন
  • ফটো এডিটিং

সম্প্রতি সিআইআই ডিজাইন একসেলেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং পাবলিক রিলেশন সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার ন্যশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে মায়াবিয়াস।

সিআইআই ইস্টার্ন রিজিওনের আইসিটি সাব কমিটির সদস্য অখিল। শুধু তাই নয়, পাবলিক রিলেশন সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার কলকাতা চ্যাপ্টারের সদস্য। সেই সঙ্গে ন্যাসকমেরও সদস্য তিনি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইটি টাস্কফোর্সেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অখিলবন্ধু।

‘মায়াবিয়াস যবে থেকে কাজ শুরু করেছে সাফল্যের সঙ্গে বহু প্রজেক্ট করেছে। সময়মতো ক্লায়েন্টের হাতে কাজ পৌঁছে দিয়েছে। গ্রাহক যে কাজে সন্তুষ্ট সেই ফিডব্যাকও পেয়েছি বহুবার’, বললেন গর্বিত অখিল। কাজ করতে করতে অ্যানিমেশনের এই জগতে ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে পরিষ্কার বুঝতে পারেন অখিল। তাই স্কুল অব অ্যানিমেশন অ্যন্ড ভিজুয়াল এফেক্ট এবং স্কুল অব ডিজিটাল মার্কেটিং গড়েছেন। লক্ষ্য কলকাতা, বেঙ্গালুরু এবং দিল্লির বেড়ে ওঠা ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। মায়াবিয়াস এরই মধ্যে ভারতের প্রথম দশটি অ্যানিমেশন কলেজের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।