রিয়েল এস্টেটের মুশকিল আসান রিয়েল্‌টোএক্সপ্রেস প্রযুক্তি

0

অনিলের হাতে ছিল জাদু। এক যুগ আগে, জাদুকরের মতো, রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ভোল পাল্টে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় মনে করা হত, রিয়েল এস্টেটের মতো অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা খুবই কষ্টকর। এই ধারণা বদলে দিতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল Housing.com, 99acres.com, magicbricks.com-মতো সংস্থাগুলি। কিন্তু, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিল না। এমনই এক তীব্র সংকটের সময় অনিলের আবির্ভাব।

অনিল কুমার নির্মল, প্রতিষ্ঠাতা, রিয়েল্‌টোএক্সপ্রেস
অনিল কুমার নির্মল, প্রতিষ্ঠাতা, রিয়েল্‌টোএক্সপ্রেস

পরিবর্তন কেমন করে এল?

২০০৮ সাল। দেশে অর্থনৈতিক টালমাটাল চলেছে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসাও ধুঁকছে। আইআইটি খড়গপুরের ২০০৪ সালের স্নাতক অনিল কুমার নির্মল বুঝেছিলেন, এর চেয়ে ভাল সুযোগ আর আসবে না। সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ফলও মিলেছিল হাতেনাতে। কারণ, মুশকিল আসান তিনিই তৈরি করেছিলেন। ক্লাউড-বেস্‌ড সিআরএম সলিউশন, রিয়েল্‌টোএক্সপ্রেস। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যার সাহায্যে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসার কাজকর্ম সহজেই সম্পন্ন করতে পারেন। পাশাপাশি অনায়াস-যোগাযোগ রাখতে পারেন ক্রেতাদের সঙ্গেও।

অনিলের কথায়, " রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা করব, এমনটাই মনস্থির করেছিলাম। প্রস্তুতও ছিলাম সেইভাবে। এবং অপেক্ষা করছিলাম সঠিক সময়ের। ব্যক্তিগতভাবে ২০০৮-০৯ সাল ছিল খুবই ভালো সময়। আমার তখন বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলের বয়সও তিন বছর। কিন্তু রিয়েল এস্টেট ব্যবসার অবস্থা একেবারেই ভালো না। কিন্তু, আমার মনে হয়েছিল, সেটাই ব্যবসা শুরুর আদর্শ সময়। কেন না বুঝতে পারছিলাম, সেই সময় বাজারের যা অবস্থা, তাতে দক্ষ লোকের অভাব হবে না। বাস্তবে হলও তাই। পাঁচ জন প্রতিভাবানকে নিয়ে শুরু করলাম ব্যবসা। এঁদের মধ্যে দু'জন আজও আমার সঙ্গে রয়েছেন। ওঁরা আমার সম্পদ।"

কেমন ছিল চ্যালেঞ্জ?

যে কোনও ব্যবসা শুরু করতে গেলেই, প্রথম দিকে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সামনে চলে আসে নানা বাধা-বিপত্তি। অনিলও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। শুরুর দিকে তাঁদের ধ্যানজ্ঞান ছিল কী করে একটি নির্ভরযোগ্য সিআরএম সলিউশন তৈরি করে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সমস্যাগুলির সমাধান করা যায়। প্রবল উদ্যোমে সেই কাজেই প্রাণপাত করছিলেন অনিল এবং তাঁর সহকর্মীরা। কিন্তু সিআরএম সলিউশন তৈরি হয়ে যাওয়ার পরেই গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেই সময় সিআরএম সম্মন্ধে বাজারের কারুরই স্পষ্ট কোনও ধারণা ছিল না। ফলে, কেউই সেটিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেননি। শুরুর দিকেএকটিও সিআরএম বিক্রি না-হওয়ায়, চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়ে অনিলের সংস্থা। বেতন না-দিতে পারায় তাঁর দলের তিন জন চাকরি ছেড়ে দেন।

কিন্তু নিজের এবং নিজের কাজের ওপর কখনওই আস্থা হারাননি অনিল। পাঁচ বছরে উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে এখন তাঁর সংস্থা অনেকটাই ওপরে। এই মুহূর্তে দুশোটিরও বেশি কোম্পানি রিয়েল্‌টোএক্সপ্রেস পরিষেবা নিয়ে উপকৃত।

.

শিক্ষা

পাঁচ বছরের কঠিন পরিশ্রম অনিলকে শিখিয়েছে,

এক, নিজের এবং নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস না-হারানো। দুঃসময়ে অনেকেই পরামর্শ দেবেন ঝুঁকি থেকে সরে আসার। কিন্তু সব সময়ই নিজে কী চাইছেন, তাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

দুই, নিজে এবং নিজের কাজে সৎ থাকতে হবে।

তিন, আপনার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যাঁরা, তাঁরা কী চাইছেন, বুঝতে হবে তা।

চার, সৃষ্টিশীল হতে হবে। এমন কিছু আনতে হবে, যা আগে ছিল না।