অটিজম যুবাদের মূলস্রোতে ফেরাচ্ছে জয়শ্রী

0

ভারতে এখনও পর্যন্ত অটিজম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা গড়ে ওঠেনি। অথচ এই ভারতেই প্রতি ২৫০ জনের মধ্যে একজন অটিজম আক্রান্ত। ২০০১ সালে সরকার এই অসুস্থতার কথা স্বীকার করে নেয়। অথচ ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সরকার বলে এসেছিল এই দেশ অটিজম-মুক্ত। বর্তমানে এই রোগ আক্রান্ত শিশুদের জন্য অনেক সংস্থাই খোলা হয়েছে। কিন্তু নভ প্রভুতি সম্পূর্ণভাবে অটিজম আক্রান্ত যুব সম্প্রদায়ের জন্য। এর প্রতিষ্ঠাতা জয়শ্রী রমেশের একটাই লক্ষ্য, এই যুবসম্প্রদায়কে আবার সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা।


জয়শ্রী রমেশ
জয়শ্রী রমেশ

স্নাতক হওয়ার পর জয়শ্রী এক বছরের একটি ট্রেনিং কোর্স করেছিলেন, যেখানে এই সব বাচ্চাদের সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হত। এই ট্রেনিং করার পরেই জয়শ্রী চলে যান আমেরিকায়। সেখানে অটিজম নিয়ে আরও পড়াশুনো করেন। ১৯৯৫ সালে ভারতে ফিরে এসে তিনি অটিজম আক্রান্ত শিশুদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। নভ প্রভুতির ট্রাস্টি মহেন্দ্র পিয়াতি জানিয়েছেন, সরকারের তরফে সাহায্য পাওয়াটাই একটা বড় ব্যাপার। সরকার অটিজমের ব্যাপারে সতর্কীকরণের কোনও চেষ্টা করে না। কোনও শিক্ষক প্রশিক্ষণ সরকারের তরফে করা হয় না কিংবা অর্থসাহায্যের কোনও আশ্বাসও সেরকমভাবে পাওয়া যায় না।


জয়শ্রী জানালেন, অটিজম আক্রান্ত বাচ্চা এবং বড় এই দুজনকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। অনেক সময়ই বাবামায়ের সঙ্গে বড়দের ফেরত পাঠিয়ে দিতে হচ্ছিল। ২০১২ সালে নভ প্রভুতি তৈরি করার পর আর এঁদের ফেরত যেতে হয়নি। নভ প্রভুতি গড়তে লেগেছিল তিনমাস। অনেকে অনেক রকমভাবে সাহায্য করেছিলেন। কেউ সেলাইয়ের মেশিন দিয়ে, কেউবা টেবিল দিয়ে। ইতিমধ্যেই নভ প্রভুতির জন্য ফান্ড তৈরি করা হয়েছে। এখানকার কর্মকর্তারা কথা বলেছেন ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স’-এর সঙ্গে। জয়শ্রী জানিয়েছেন, এদেরকে বড়দের মত করেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ক্লাসরুম সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের কাজকর্মে তাঁদের ব্যস্ত রাখা হয়। অক্ষরের সঙ্গে পরিচয় করানো হয়।


বিশেষ করে স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। দেখা গিয়েছে, ক্লাসরুমে আরও ছেলেমেয়েদের সঙ্গে থাকার ফলে তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে উন্নতি দেখা গিয়েছে। যেমন, কোনও অনুষ্ঠান হলে দেখা যাচ্ছে মোবাইল নিয়ে পুরো অনুষ্ঠান রেকর্ড করে রাখছে কেউ। আবার কেউ কেউ আইপ্যাডের ফাংশন অত্যন্ত ভালোভাবে জানেন। কারও আবার গান কিংবা আঁকার প্রতি উৎসাহ আছে। বাবামাদের কাছেও জয়শ্রীর আবেদন, ছেলেমেয়েদের সাথে সমানে কথা বলুন, তাঁদের উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করুন।