নূপুরম্যামের তুলির টানে ওরাই ‘বাঞ্চ অব স্টারস’

0

‘বাঞ্চ অব স্টারস’। হ্যাঁ এই নামেই নূপুরম্যাম ডাকেন ওদের । নূপুর মুখার্জী। পেশায় নৃত্যশিল্পী। নাচ শেখাতে এবং নিজে পারফর্ম করতে পছন্দ করেন। তবে আর পাঁচজনের থেকে আলাদা তাঁর নাচের ইস্কুল। যাদের শেখান তারাও বেশ খানিকটা আলাদা। তারা বিশেষভাবে সক্ষম।

শুধু নাচ শেখানো নয়, নূপুর ম্যামের কাছে ওরা শেখে কীভাবে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসতে হয়। শারীরিক কিংবা মানসিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নৃত্যশিল্পের মাধ্যমে অসাধ্য সাধন করতে পায়ে নূপুর বেঁধেছেন নূপুরম্যাম। বলছিলেন তাঁর লক্ষ্য যারা দশ পা পিছিয়ে আছে তাদের অন্তত দু' পা এগিয়ে দেওয়া। গর্ব করে বলছিলেন ‘আমারই ছাত্র ছাত্রীরা চন্ডীগড় বোর্ডের হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে আমার কাছে এটাই সাফল্য।’

কথায় কথায় এল তাঁর সংস্থার কথা। প্রথম শুরু করেছিলেন তাঁর সংস্থা ‘তুলির টানে’। অন্য কোথাও নয় কসবায় নিজের বাড়িতেই। প্রথমে কাজ শুরু করেন দুঃস্থ পরিবারের শিশুদের নিয়ে। গান ও নাচের মধ্যে দিয়ে চেষ্টা করছিলেন তাদের স্বপ্ন সার্থক করার। নাচের সূত্রেই অনেক জায়গায় যাওয়া। সেখানেই প্রথমবার পরিচয় ‘ডাউন্স’ বাচ্চাদের সমস্যার সঙ্গে। ১৯৯৫ সালে তাই তুলির টানেতে নিয়ে আসেন ডাউন্স বাচ্চাদের। তিনজনকে নিয়ে কাজ শুরু করেন। আজ সেই সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। পাশে পেয়েছিলেন দিদি শম্পা মজুমদারকে। তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন বিশেষভাবে সক্ষমদের আঁকার মাধ্যমে কিছু শেখানোর। নূপুর বললেন ‘কোনও কিছু বলে ওদের দিয়ে কিছু করানো মুশকিল। তাই প্রথমে গান চালিয়ে দিয়ে ওদের মুভমেন্ট লক্ষ করি। দেখলাম মিউজিকে ওরা ভালো রেসপন্স করছে । তারপর কখনও হাতে দড়ি,রিবণ দিয়ে ওদের মুভমেন্ট করতে বলি দেখি। এটাতে দেখি ওরা কথা শুনছে। নাচের মুভমেন্টও করছে’ । সেই শুরু। নূপুর মুখার্জীর এই শেখানো আসলে আর্ট অব হিলিং। তার ফলে অনেক সিভিয়ার অটিস্টিক ছেলেমেয়েরাও এখন মিউজিকে সারা দিতে পারে। কিছুটা হলেও সাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। নূপুর মুখার্জী জানালেন , ‘অনেক সময়ই ওরা রেগে যায়। মিউজিক থেরাপি ওদের রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে’। শুধু বিশেষভাবে সক্ষমদের নয়, তিনি পাশে আছেন সেইসব মহিলাদেরও যারা জন্ম দেয় বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের । নূপুর মুখার্জী বলেন ‘অনেকেই দেখেছি শিশুদের জন্ম দেওয়ার পর এবং বোঝার পর তাঁর শিশু বিশেষভাবে সক্ষম ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে ভোগেন’ । সেইসব মহিলাদের মিউজিক থেরাপি এবং মেডিটেশনেরও ব্যবস্থা করেন নূপুর মুখার্জী।

তিনি বলেন, সাধারণ অনেক মানুষকেও দেখেছি রেগে যেতে কিংবা ডিস্টার্বড থাকতে। তাদের জন্যও শুরু করেছি মিউজিক থেরাপির নানা ওয়ার্কশপও। ২০১৫ সালেই তিনি গিয়েছেন জাপানে। জাপানের মিউজিক থেরাপিস্টদের সঙ্গে কাজও করেছেন । নিজের মেয়ে রয়েছে জাপানে। মেয়েও মায়ের মতো জাপানেও মিউজিক থেরাপির মাধ্যমে বিশেষভাবে সক্ষমদের নিয়ে কাজ করছেন।