অলোকের স্টার্ট ইঞ্জিন, পেটুক কলকাতার সার্চ ইঞ্জিন

0
খাই খাই 
করো কেন?
এসো বসো 
আহা !! ..রে !!

বাঙালির ভুঁড়িভোজের একটা একাল সেকাল আছে। জেলায় জেলায় খাবারের বৈচিত্র্যের টোটাল একজিবিশন। আর বাংলা বলতে তো শুধু পশ্চিম বাংলা নয়, কাঁটাতারের ওপারে যে সংস্কৃতি ফুল্ল কুসুমিত ও বিকশিত তাদের হেঁসেলেরও বহুত নামডাক। পুঁই মেটুলি, রসুন পোস্ত, টক মাছ, সর্ষে ইলিশ, ভাপা ভেটকি, কচু পাতায় চিংড়ির হাজার একটা পদ, ইলিশের তো তালে দেড় দুহাজার, পাবদা, পার্সে, তেল কই, বোয়াল, কত বলব... কত শুনবেন?

কিন্তু এসব পাবেন কোথায়? খাবেন কিভাবে? আপনার ঘরের কাছে, হাতের নাগালে কোন রেস্তোরাঁয় এসব বাঙালি অথেনটিক খানা খাজানা আছে সেই খোঁজই দেন কলকাতার অলোক মজুমদার। শুধু বাঙালি খানা কেন, ইটালিয়ান, লেবানিজ, চাইনিজ, পার্সি, টার্কিশ, ব্রিটিশ, স্ক্যান্ডানেভিয়ান, কী চাই? সব জানে অলোক বাবুর 'kolkata foodies'।

এ এক অদ্ভুত স্টার্টআপ। সবে গত বছর লঞ্চ করেছেন অলোক। Zomato, google-এর যুগে kolkata foodies নিজগুণে স্বতন্ত্র। শুধু খানা ঠিকানা নয়, খানা 'গিয়ান'ও বটে।

২০১৫-তে যখন শুরু করেন, তখন kolkata foodies একটা ফুডব্লগ। নিজে তো লিখতেনই, খাদ্যরসিক বাছাই করা বিশেষজ্ঞ কিছু মানুষ লিখতেন এই ব্লগে। সেই ব্লগই ধীরে ধীরে আস্ত একটা পোর্টালে বদলে গেছে। এখন kolkata foodies রেস্তোরাঁ আবিষ্কারের একটি সাইট। খেতে যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের জন্য টোটাল ইনফো। রীতিমত ম্যাপ দেখে বেছে নিতে পারবেন আপনার পছন্দের রেস্তোরাঁ। শুধু রেস্তোরাঁ কেন,পাবেন বার-পাবের সুলুক সন্ধানও, কোথায় চলছে দুর্দান্ত সালসা, ব়্যাপ, জ্যাজ কিংবা ডিজে মিক্স বলিউডি হুল্লোড় সে খবরও খাবারের পাশে পাশেই থাকছে। আর খাবার সে তো ঘরোয়া থালি থেকে শুরু করে থাই,কন্টিনেন্টাল। এ যেনও ভুতের রাজার জবর বর।

সদ্যোজাত এই সংস্থায় ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত প্রায় ৬০টি রেস্তোরাঁ। রয়েছে Novotle, Hoppipolla, Hyatt, Serafina, Hakuna Matata-র মতো বড় ব্র্যান্ডও। অলোক বলছিলেন এই সবে শুরু। দিনরাত এক করে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন গত কয়েক মাস। সবসময় পাশে পেয়েছেন তাঁর সাপোর্টিভ বেটার হাফকে। খুব শিগ্‌গিরি মোবাইল অ্যাপলিকেশন নিয়ে আসছেন ওঁরা। তাহলে তো আর কথাই নেই! চোখ বুজে বলা যায় kolkata foodies হয়ে উঠবে কলকাতার ভোজন রসিকদের বাইবেল।

পেশায় টেকি অলোক ২০০৮সালে বন্ধুদের সঙ্গে শুরু করেছিলেন একটি স্টার্টআপ, Conversys Technologies। দুবছর পর বেড়িয়ে আসেন সংস্থা থেকে। চলে যান কলকাতার বাইরে। ঘুরে ফিরে দেখেন কলকাতার বাইরের পরিস্থিতি। ফিরে এসে নতুন করে কলকাতার প্রেমে পড়েছে তাঁর কলকাতা ক্রোমোজোম। বলছেন শুরু করার জন্য কলকাতাই সবথেকে ঠিক জায়গা। আর নিজের আবেগের কথা শুনে চলার এটাই নাকি উপযুক্ত সময়। শুনে মনে হল, অলোক মজুমদার যেন বলতে চাইলেন...

"... কিন্তু সবার চাইতে ভালো পাউরুটি আর ঝোলা গুড়"

Has a heart to communicate...loves music, writing, painting and meeting people. Teacher of English literature, proudly calls herself an activist in Bengal's StartUp movement.

Related Stories