পেশাদার কুকের হাতের ঘরকা খানা ফুডক্লাউডে

0

অনেক সময় হয়, বাড়িতে হঠাৎ অতিথি চলে এলেন। কী খাওয়াবেন, কীভাবে আপ্যায়ন করবেন রীতিমতো দিশাহীন লাগে। অনেকের আবার রেস্তোরাঁর খাবার মুখে রোচে না। আর আপনি মনে মনে ভাবছেন, আলাদ্দনের চিরাগের জিনি এসে যদি বাড়ির রান্নার স্বাদের খাবার দিয়ে যেত...। আজকাল ছুটে চলার ব্যস্ত জীবনে অফিস সামলে নিজের হাতে সুস্বাদু রান্না করে খাওয়ানো কম ঝক্কির নয়। অথচ বাড়ির রান্না খাওয়াতেই হবে। তাহলে উপায়? ব্যস্ত গৃহস্থের এই ঝক্কির কথা মাথায় রেখে পেশাদার শেফের হাতে ঘরকা খানা এনে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ফুড ক্লাউড। ওয়েবসাইটে খাবার অর্ডার করলেই পছন্দের শেফের হাতে বাড়ির রান্না পৌঁছে যাবে আপনার বাড়ির দরজায়।

এ বছর সেপ্টেম্বরে দুই উদ্যোক্তা ভেদান্ত কানোই এবং সমিত খেমকার হাত ধরে দিল্লির সংস্থা ফুডক্লাউডের জন্ম। ২০০৬ সালে কারনেগি মেলন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ভেদান্ত প্রথমে ইউএসবি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কে যোগ দেন। দু বছর কাজ করার পর ২০০৮ সালে চাকরি ছেড়ে ব্যাচবাজ মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। সমিত খেমকা সিন্যাপসি ইন্ডিয়া নামে একটি সংস্থা গড়ে সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট এবং তথ্যপ্রযুক্তির নানা সুরাহা দিতেন। তারও আগে সম্পত্তি ডটকম নামে ওয়েবসাইট খোলেন। সারা দেশের রিয়েল এস্টেটের ডাটাবেস (পরিসংখ্যান) দেয় এই ওয়েবসাইট।

ফুডক্লাউডকে হোমডেলিভারি বলে ভুল করলে চলবে না। ফুডক্লাউড আসলে পেশাদার শেফের হাতে বাড়িতে রান্না করা খাবার পরিবেশন করে। মেনুতে খাবারের বৈচিত্রের বেশ লম্বা তালিকা। ওয়েবসাইটে অর্ডার করলেও গ্রাহক নিজেই শেফকে ফোন করে আলাদা করে কিছু বলার থাকলে বলতে পারেন। খাবার গ্রাহক নিজে তুলে আনবেন, নাকি হোমডেলিভারি হবে সেটা নির্ভর করে শেফ এবং খাবারের পারিমানের ওপর।

কীভাবে খাবার অর্ডার করবেন? ইউজার বা গ্রাহক ওয়েবসাইটে গিয়ে লগ ইন করে শেফ অথবা খাবার দিয়ে ব্রাউজ করতে পারেন। মেনুতে খাবার পছন্দ করার পর, সেই খাবার বানাতে অভিজ্ঞ সেফকে অর্ডার দেওয়া যেতে পারে। চাইনিজ, লেবানিজ, থাই, ইটালিয়ান, রাজস্থানী, অস্ট্রেলিয়ান, মেক্সিকান, গ্রিক এবং আরও অনেক ধরনের খাবার ওয়েবসাইটে তালিকায় পাওয়া যায়। খাবার পছন্দ করে সিলক্ট অপশন ক্লিক করে পরিমান জানান। তারপর যেদিন খাবার চান সেই তারিখ বলে দিন। চেকআউট করতেই অর্ডারের কনফরমেশন পাবেন। সেই সঙ্গে যদি শেফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান, তাঁর ঠিকানা বা ফোন নম্বর পেয়ে যাবেন।

দিল্লির এই ফুডক্লাউডে দুই উদ্যোক্তা সারা শহরের ২০ জন শেফকে সঙ্গে রেখেছেন। সবে শুরু। খানিকটা পরিচিতিও হয়েছে এরই মধ্যে। নিজেদের পুঁজিতেই শুরু হয়েছে। এখন পরিষেবা শুধু দিল্লিতে দিলেও, ভবিষ্যতে অন্য মেট্রো সিটিগুলিতেও ব্যবসা বাড়ানোর ইচ্ছে রয়েছে দুই তরুণতুর্কীর।