সঠিক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়তে চাইছে সরকার

0

এদেশে স্টার্টআপগুলির বেড়ে ওঠার জন্য সঠিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের কোন কোন বিষয়গুলিতে নজর দেওয়া উচিত? শনিবার দিল্লির স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া অনুষ্ঠানে অন্ত্রপ্রেনিওরদের সামনে সেই বিষয়টিই তুলে ধরলেন একঝাঁক সরকারি আমলা। ভারতকে উন্নয়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং এদেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অন্যতম ভরসা এই শুরুয়াতি সংস্থাগুলিই। যদিও একটি সফল এন্টারপ্রাইজ গড়ে তুলতে কিন্তু কেবলমাত্র একটি ভাবনাই যথেষ্ট নয়। কোনও ব্যবসা গড়ে তোলা আসলে চক্রব্যুহে প্রবেশ করার চেয়ে কম কিছু নয়। নির্দিষ্ট নিয়ম নীতি, নথিভুক্তকরণ, কর সংক্রান্ত হাজারো নিয়মকানুন - কী নেই সেখানে?

ইলেক্ট্রনিক্স এবং আইটি বিভাগের সেক্রেটারি, জে এস দীপকের মতে, 

"যদিও ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সঙ্গে কমপ্লায়েন্স এবং ট্যাক্সেশন রেগুলেশনের ক্ষেত্রে শুরুয়াতি সংস্থাগুলিকে বেশ কিছু সমস্যার মুখে পড়তেই হয়, তবে আইটি-র ক্ষেত্রে কিন্তু এই সংস্থাগুলিকে সাহায্য করার জন্য বহু ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ফান্ডিং এবং মেন্টরশিপের ব্যবস্থা রয়েছে।"

একইভাবে কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সচিব তপন রায় বলছেন, "সংস্থাগুলির নথিভুক্তকরণের ক্ষেত্রে আমাদের আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনও সংস্থাকে ছাড়পত্র দিতে গেলে আমাদের ৩৯টি নিয়ম মেনে চলতে হয়। কিন্তু এরপর থেকে আমরা এমনভাবে কাজ করার চেষ্টা করব যাতে কোনও সংস্থার রেজিস্ট্রেশনে ২৪ঘণ্টার চেয়ে বেশি সময় না লাগে।"

গত অগাস্টে মাইক্রো, স্মল এবং মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস দফতরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কলরাজ মিশ্র ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর মন্ত্রক স্কিল ম্যাপিং প্রজেক্টের অধীনে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ৬৫২ টি জেলার ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোফাইল প্রস্তুত করেছে। তাঁর মতে, এই তথ্যগুলি নতুন উদ্যোগপতিদের তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসার জন্য সঠিক জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

অন্যদিকে স্টার্ট আপগুলিকে পরামর্শ দেওয়ার সময় ওই একই দফতরের সচিব অনুপ কে পুজারি উল্লেখ করলেন,

"যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি নিজে থেকে সমস্যায় পড়তে চান, ততক্ষণ অন্য কেউ আপনাকে কোনও সমস্যায় ফেলতে পারে না। নিজের সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করুন, দেখবেন নিজে থেকেই তার সমাধান করতে পারছেন।"

শুরুয়াতি সংস্থাগুলির নথিভু্ক্তকরণের ক্ষেত্রে যাতে অযথা জটিলতার সৃষ্টি না হয়, তার জন্য গত বছর জুন মানে সেবি একটি ই-আইপিও সিস্টেম চালু করার কথা ঘোষণা করেছিল। যার মাধ্যমে একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীরা অনলাইনে বিড করতে পারবেন, অন্যদিকে এপ্রজন্মের স্টার্টআপগুলি বিনিয়োগ টানতে নতুন প্ল্যাটফর্ম পাবে এবং আইনী দিক থেকেও বিষয়টি অনেক সহজ হবে। শুরুয়াতি ব্যবসার ক্ষেত্রে এই সংশোধিত নিয়মাবলি অনুযায়ী সেবি একটি "অল্টারনেট ক্যাপিটাল রেজিং প্ল্যাটফর্ম" পরিষেবা প্রদান করবে, যা এই দুটি কাজকেই আরও সহজ করে তুলবে। 

সেবি-র সদস্য প্রশান্ত সরণ জানালেন "স্টার্টআপের জন্য আমাদের বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। এটি প্রাইভেট ইক্যুয়িটি ফান্ড সমর্থিত একটি প্ল্যাটফর্ম।"

অন্যদিকে একজন উদ্যোগপতি অন্ত্রপ্রেনিওরশিপের ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের মেন্টরশিপের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি দফতরের সচিব আশুতোষ শর্মা জানান,

"এই মুহূর্তে ৭০টি টেক ইনকিউবেটর সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। তাদের সাহায্যে আমরা স্কুল, কলেজ, আইআইটি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পৌঁছতে চাই। এই ভাবনা বাস্তবে কার্যকরি কি না তা খতিয়ে দেখতে হাই রিস্ক হাই গেম স্কিম-ও চালু করা হয়েছে।"

অর্থাৎ সবদিক থেকে সবরকম সমস্যার সমাধান করে স্টার্ট আপের জন্য সঠিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে মরিয়া মোদি সরকার। এই মুহূর্তে দেশের প্রতিটি প্রান্তে শুরুয়াতি ব্যবসার সমর্থনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা পৌঁছে দিতে পারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, টিয়ার টু এবং টিয়ার থ্রি শহরগুলির উদ্যোগপতিরা কিন্তু এখনও এই অধিকাংশ সুযোগসুবিধার কথা সেভাবে জানেন না বললেই চলে।

(লেখা - অপরাজিতা চৌধুরী, অনুবাদ - বিদিশা ব্যানার্জী)